১০ বছর ধরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ

১০ বছর ধরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ ছবি সংগৃহিত

এক যুগ আগে কেনা তিনটি ফগার মেশিন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। মশক নিধনের জন্য কোনো জনবল ও বাজেট নেই। এ কারণে গত এক দশকে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রম ছিল না। এ সুযোগে মশার অবাধ বংশবিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে বর্তমানে পৌর কর্মচারীদের ধর্মঘটের সুবাদে রাস্তা-ড্রেন আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে আছে। তাতে দ্রুত মশার বংশবিস্তার ঘটছে।

কুড়িগ্রাম পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিক তিনটি ফগার মেশিন কেনেন। সেটা অল্পদিনেই তা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো মেশিন কেনার আর উদ্যোগ নেননি। বর্তমানে ৪৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সবাই ধর্মঘটে আছেন। আবর্জনাবাহী আটটি গাড়ির চারটিই বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না হওয়ায় পানি দূষিত ও নোংরা হয়ে মশা বংশবিস্তার করছে।

সরেজমিনে হাটিরপার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ জমে রাস্তার একাংশ অচল হয়ে আছে। এ ময়লার ওপর সাধারণ স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটাচ্ছেন পৌরসভার এক শ্রমিক।

পৌর মেয়রের উদ্যোগে রংপুর সিটি করপোরেশন থেকে একটি ফগার মেশিন ধার করে এনে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ছিটানো হয়। তাছাড়া কয়েক দিন ধরে মাইকিং করে পৌরবাসীকে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করার কাজ চলছে। তবে এ কার্যক্রম যথেষ্ট নয় বলে মনে করে পৌরবাসী।

কুড়িগ্রাম শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা আনিছুর রহমান চাঁদ বলেন, কুড়িগ্রাম হাসপাতালে যে হারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে পৌর এলাকায় ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ পৌর এলাকায় কোনো মশক নিধন কার্যক্রম নেই।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পৌরবাসীর আতঙ্ক দূর করতে পৌর মেয়রকে মশক নিধন কার্যক্রম আরো জোরদার করা উচিত।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র মো: আব্দুল জলিল জানান, বাজেট না থাকায় ফগার মেশিন সংগ্রহ করতে পারিনি। তবে নিজস্ব তহবিল থেকে দু-একটি মেশিন সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তাতে কিছুটা হলেও জনমন থেকে মশকভীতি কমানো যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :