ইউপি চেয়ারম্যানের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত

ইউপি চেয়ারম্যানের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত লাঞ্ছনার শিকার কনিকা রানী দেবনাথ ও ভাঙচুরকৃত সীমানা প্রাচীর। ছবি ডেইলি বার্তা

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশুর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাঞ্ছনা এবং হামলার অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার সকালে লাহারকান্দি ইউনিয়নের লাহারকান্দি গ্রামের যুগি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত নারীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু ভূক্তভোগী ওই নারীর পরিবারের মালিকানাধীন জমিতে থাকা একটি সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান মশুর দাবি, সীমানা প্রাচীর ভাঙার সময় ওই নারী বাধা দিলে তাঁর গায়ে হাত লাগে।  লাঞ্ছনার শিকার ও আহত কনিকা দেবনাথ (২১) ওই এলাকার অনুপ চন্দ্র দেবনাথের স্ত্রী।

আহত কনিকা দেবনাথ বলেন, আমার শ্বশুরের মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণাধীন প্রাচীর ভাংচুরের সময় বাধা দিতে গেলে চেয়ারম্যান আমার গায়ে হাত তোলে। এতে আমার পেটে আঘাত লাগে। আমি ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় পেটে তীব্র ব্যাথা অনুভব করি।  

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু বলেন, পাপড়ী রানী দেবনাথে নামে এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সদর থানা পুলিশের সাথে কথা বলে সীমানা প্রচীর ভেঙ্গে যাতায়াতের পথ বের করি। এতে কনিকা নামের এক নারীসহ কয়েকজন বাধা প্রদান করে। এ সময় ওই নারীর গায়ে একটু হাত লেগেছে। তাকে মারধর করা হয়নি।

জানা গেছে, লাহারকান্দির যুগী বাড়ির মৃত গোরাঙ্গ চন্দ্র দেব নাথের পুত্র বিকাশ চন্দ্র ও তাঁর অন্যান্য ভাইদের মালিকানাধীন জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। গেল মে মাসে ওই জমির মালিকানা দাবি করে একই বাড়ির কার্তিক দেবনাথের স্ত্রী পাপড়ী রানী দেবনাথ লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (সদর) মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃক দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিবাদী বিকাশ চন্দ্র দেবনাথের পক্ষে রায় হয়। ওই রায়ের ভিত্তিতে তাদের মালিকানাধীন জমির কিছু অংশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। শুক্রবার সদর থানা পুলিশ এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে থানায় বৈঠকের নির্দেশ দেয়। পরে তারা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শনিবার সকালে লাহারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মশু, স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ ও চকিদার জহিরসহ কয়েকজন এসে কোন নোটিশ ছাড়াই বিকাশ চন্দ্র দেবনাথের মালিকানাধীন জমিতে থাকা সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেয়। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মূখে পড়েন ইউপি চেয়ারম্যান। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে। ভাংচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ কাউকে ভাংচুর করার জন্য বলেনি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :