লক্ষ্মীপুরে ছেলে ‘হত্যা’র বিচার দাবি করেছেন বৃদ্ধা মা

লক্ষ্মীপুরে ছেলে ‘হত্যা’র বিচার দাবি করেছেন বৃদ্ধা মা ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন বৃদ্ধা মাতা। ছবি ডেইলি বার্তা

লক্ষ্মীপুরে মো. মোরশেদ আলম (২৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা বলে দাবি করেছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, বন্ধুদের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। মোরশেদের লাশ উদ্ধারের পর থেকে পলাতক রয়েছে আরাফাত হোসেন অভি (২৫), এমরান (২৮) ও মঞ্জু (৩০) নামে তার তিন বন্ধু। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা করতে গেলে ও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে দাবি মোরশেদের পরিবারের।

তবে পুলিশ বলছে- কেউ মামলা করতে থানায় আসেনি। ময়না-তদন্ত রিপোর্টের পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনা গ্রামের সেলিনা নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর বাড়ি থেকে মোরশেদ আলম নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতন্ত করা হয়। পরে পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা করে। 

মোরশেদ ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের মৃত. সফিউল্ল্যাহ ছোট ছেলে। স্থানীয়দের কাছে সে ‘বাংলা’ মোরশেদ হিসেবে পরিচিত।

সেলিনা নামে ওই নারী নেত্রী তাৎক্ষণিক পুলিশ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেছে, হঠাৎ বুকে ব্যথার উঠার পর মোরশেদের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মোরশেদের পরিবার বলেছে ভিন্ন কথা।

মোরশেদের বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরদিন সকালে পুলিশের মাধ্যমে তার ভাইর মুত্যুর খবর তারা জানতে পারেন। তিনি আরও জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর মোরশেদ তার বন্ধু অভি ও এমরানের সাথে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন রাতে ওই বন্ধুদের সাথে মোরশেদের বাগবিতন্ডা হয়। তার দাবি- বন্ধুরাই তাকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও দাবি করেছেন, মোরশেদ মৃত্যুর পর ওইদিন সকালে অভি মোরশেদের চিকিৎসার কথা বলে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা নেয় এবং মোরশেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়েও পালিয়ে যায় অভি ও এমরান।

তিনি বলেন, ঘটনার রাতেই পুলিশ নারী নেত্রী সেলিনা, মঞ্জু ও এমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অজ্ঞাত কারণে পুলিশ আবার তাদেকে চেড়ে দেয়। এ কারণে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

মোরশেদের বড়বোন হাসিনা বেগম জানান, চট্রগামের একটি ফিশারিতে চাকরী করতো মোরশেদ। ১২ সেপ্টেম্বর সে বাড়িতে বেড়াতে এসে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। হত্যার সুষ্টু বিচার দাবি করেন বোন হাসিনা বেগম।


মোরশেদের খালা রহিমা বেগম জানান, তার বাড়ি একই উপজেলার তেয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে। ঘটনার রাতে মোরশেদ তার বন্ধু অভিকে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে রাতের খাবার খান। এ সময় মোরশেদ তার কাছে পৌণে তিন লাখ টাকা হেফাজত করে রাখার জন্য দেন বলে দাবি করেন তিনি।

রাত প্রায় ১০টার দিকে একটি ফোন কলের পর তারা দুইজন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, ভোর প্রায় ৫টার দিকে মোরশেদের বন্ধু অভি তার বাড়িতে যান। তখন অভি তাকে জানান- মোরশেদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। মোরশেদের গচ্ছিত টাকাগুলো নিয়ে তাকে চিকিৎস্যা করানো কথা বলে চলে যায় অভি। এর কয়েক ঘন্টা পর মোরশেদের মুত্যুর খবর পেয়েছেন তিনি। তার দাবি, বন্ধুরাই অর্থ আত্মসাতের জন্য মোরশেদকে হত্যা করেছে।

মোরশেদের বাড়ির লোকজন ও নিকটাত্মীয়রাও ঘটনাকে হত্যা হিসেবে দাবি করে হত্যার বিচার চেয়েছেন। তবে এ নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন, ভূগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

তারা অভিযোগ করে বলেন,‘ নারী নেত্রী সেলিনা স্থানীয়ভাবে প্রভাশালী এবং ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি।’

মোরশেদের পরিবারের লোকজন জানান, মোরশেদের লাশ হাসপাতালে নেওয়ার পর থানা পুলিশের কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তরের জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন। যদিও প্রথমে তারা স্বাক্ষর দিতে চাননি।

এদিকে থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মোরশেদের মা। তার অভিযোগ, ওইদিন সদর থানায় মামলা করেত গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর থানা পুলিশ। মোরশেদের পরিবারের কেউ মামলা করেত আসেনি বলে জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজিজুর রহমান মিয়া। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায়- তাহলে পুলিশের দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু হবে। আর হত্যা করা হয়ে থাকলে কারা জড়িত তাদেরকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :