করোনো ভাইরাস আক্রান্ত ভয়ে চা বাগান শ্রমিকরা নিজেরাই ছুটি ভোগ শুরু করেছে

করোনো ভাইরাস আক্রান্ত ভয়ে চা বাগান শ্রমিকরা নিজেরাই ছুটি ভোগ শুরু করেছে করোনো ভাইরাস আক্রান্ত ভয়ে চা বাগান শ্রমিকরা নিজেরাই ছুটি ভোগ শুরু করেছে

প্রাণঘাতী করোনো ভাইরাস  বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো পৃথিবীতে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ২৭৮৩ জন মারা গেছেন। একদিনেই বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ হাজার ৫শ মানুষ। সবমিলিয়ে ২৩ হাজার ৯শ ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার। গতকাল এটি ছিলো ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৯ জন। কভিডে আক্রান্ত হয়ে ১৯ হাজার ১৫৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং মৃত্যুর হার ৫ শতাংশ। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৮৩ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারিভাবে সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করে মানুষজনকে নিজ নিজ ঘরে নিরাপদে থাকার কথা থাকলেও চা বাগান সমূহে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়নি। এ ছুটি স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে বৃহস্পতিবার সকালে চা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিয়ে ছুটি ভোগ শুরু করেছে।

বুহস্পতিবার সকালে শমশেরনগর চা বাগানে পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা বাগান ব্যবস্থাপকের সাথে দেখা করে প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নিজেরাই ছুটিতে চলে গেছেন।জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি ছুটি ঘোষণার পরও শুধুমাত্র চা শ্রমিকদের এ ছুটির আওতার বাহিরে রাখায় গত কয়েক দিন ধরে চা বাগান শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। ক্ষোভের কারনে শুক্রবার সকালে শমশেরনগর চা বাগানের চা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করেন। চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সকালে চা বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে গিয়ে এই দুর্যোগের সময় সারা দেশের মত চা শ্রমিকদেরও ছুটি দিতে দাবি জানায়। 

আলোচনার এক পর্যায়ে শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি ও উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ চা বাগান ব্যবস্থাপককে জানিয়ে দেয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ছুটিতে সাধারণ চা শ্রমিকরা ও অন্তঃভূক্ত আছেন । ফলে শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত চা শ্রমিকরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান নিয়ে সরকারি ছুটি পালন করবে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) কার্যকরি কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সরকারি ছুটি ভোগ করতেই এই কর্মবিরতি। এই কর্মবিরতিই সরকারি ছুটি ভোগ করছে চা শ্রমিকরা। 

শুক্রবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত শমশেরনগর, কানিহাটি, দেওছড়া বাঘিছড়া ও ডবলছড়া চা বাগানে সরকারি ছুটি বোগ করবে চা শ্রমিকরা। নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন পর্যায়ক্রমে চাতলাপুর ও আলীনগর চা বাগানসহ কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য চা বাগানের শ্রমিকরাও এ ছুটি ভোগ করবে।বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী শমশেরনগরসহ ৫ চা বাগানে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ভোগ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সারাদেশের মত চা শ্রমিকদেরও সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যেই শ্রম মন্ত্রণালয় ও চা বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশের চা সংসদেও লিখিত আবদেন পাঠানো হয়েছিল।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :