এক অনন্য কমলা হ্যারিস

এক অনন্য কমলা হ্যারিস

শিক্ষাজীবন থেকেই ভীষণ আত্মবিশ্বাসী কমলা হ্যারিস। আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন সব সময়। সেই একই গুণের পরিচয় তিনি এখনো দিচ্ছেন, হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং নিজের উপদেষ্টা হিসেবে নারীদেরই জায়গা দিয়েছেন।

হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কমলা ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৪৯তম সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন। যে বিশ্বাস ধারণ করে তিনি নিজে এগিয়েছেন, সেটা বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তিনি সেদিন সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীদের দিয়েছিলেন তিনটি পরামর্শ। কমলার প্রথম পরামর্শ ছিল, ‘নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, এগিয়ে যাওয়ার জন্য সব মিথ্যা ও ভুল ধারণা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আমি হাওয়ার্ড থেকে শিখেছি, তুমি চাইলে যেকোনো কিছু পারবে, চাইলে সব কিছু পারবে। তুমি চাইলে ফুটবলার হয়েও সবচেয়ে বড় ডিগ্রিটা অর্জন করতে পারবে। চাইলে কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়েও হতে পারবে কবি।’ হাওয়ার্ডে তাঁর জীবন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কী পারব, কী পারব না, এ বিষয়ে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির ভুল ধারণা কখনোই আমাকে প্রভাবিত করেনি। অন্যের চাপিয়ে দেওয়া বিভ্রান্তিমূলক ধারণা প্রত্যাখ্যান করেই আমি এখানে এসে পৌঁছেছি।’

কমলার দ্বিতীয় পরামর্শ ছিল, ‘সত্যকে ছড়িয়ে দাও। সত্য বলা আর সত্য ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। সত্য বলা হলো কল্পকাহিনি থেকে তথ্যটা আলাদা করা। আর সত্য ছড়িয়ে দেওয়া মানে জোর গলায় বলা, সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

তৃতীয় পরামর্শ দেওয়ার আগে কমলা নিজের এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ল স্কুলে পড়া অবস্থায় তিনি কিছুদিন অ্যালানিডা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে শিক্ষানবিশি করেন। তখন এক বড় মাদক চোরাকারবারির মামলার তদন্তে তিনি দেখেন, এক নির্দোষ পথচারীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হতে হতে শুক্রবার বিকেল হয়ে যায়। সেদিনই নির্দোষ ব্যক্তিকে ছাড়াতে না পারলে ছুটির দুই দিন তাঁকে জেলে কাটাতে হবে, কিন্তু কমলা সেটা হতে দেননি। তিনি বিচারকের অপেক্ষায় কোর্ট রুমে বসে কর্মচারীদের বারবার বলেছেন, যেন বিচারককে আসতে অনুরোধ করা হয়। অবশেষে বিচারক এসে কলমের এক আঁচড়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে মুক্ত করে দেন।

 গল্প শেষ করার পর কমলা বলেন, ‘তুমি যত ক্ষুদ্রই হও, তাতে কিছু যায়-আসে না। তোমার সত্যই তোমার সঙ্গী, তোমার শক্তি। তাই বড় পরিবর্তনের জন্য বড় পদবি বা ক্ষমতার প্রয়োজন নেই।’ সত্যকে সঙ্গী করে সমাজে পরিবর্তন আনতে অঙ্গীকারবদ্ধ কমলা দেশের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে চলেছেন। নিজের চিফ অব স্টাফ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা পদেও তিনি মনোনয়ন দিয়েছেন তিন নারীকে। গত বৃহস্পতিবার তিনি এ তথ্য জানান।

সূত্র : হ্যারিসডটসিনেটডটজিওভি, এনডিটিভি।

আপনার মতামত লিখুন :