লক্ষ্মীপুরে মায়ের হাতে শিশু খুন, গোলাগুলিতে যুবক নিহত

লক্ষ্মীপুরে মায়ের হাতে শিশু খুন, গোলাগুলিতে যুবক নিহত প্রতীকী ছবি

লক্ষ্মীপুরে এক পাষন্ড মায়ের হাতে নির্মম খুনের শিকার হয়েছে মো. কাউছার নামের ৮ বছরের এক শিশু। অন্যদিকে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে ইলিয়াস (৩৫) নামে এক যুবক। পুলিশ নিহত শিশু ও যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

শিশু হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মা স্বপ্না বেগমসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কাউছার একই এলাকার পিকআপ ভ্যানচালক মো. রাসেলের পুত্র। সে স্থানীয় লোকমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

জানা গেছে, সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ওই শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার মা স্বপ্না। প্রতিবেশীরা জানায়, গাড়ি চালানোর কাজে বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকেন স্বপ্নার স্বামী রাসেল। এ সুযোগে বিশৃঙ্খল জীবন-যাপন করতেন তার স্ত্রী স্বপ্না।

সোমবার রাতে মায়ের কাছে ছেলে কাউছার ১০ টাকা চেয়ে বায়না ধরলে তাকে তা দিতে অপারগতা দেখিয়ে ধমকে থামাতে চায় মা স্বপ্না। তাতেও শিশুটিকে মানাতে না পেরে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্বপ্না মারধর করে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে নিজেরর ওড়না কেটে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালায় পাষন্ড মা। এর কিছুক্ষণ পর সন্তান মারা গেছে বলে চিৎকার দিয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন স্বপ্না।  

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্নার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। রাতে শিশু কাউছার তার মায়ের কাছে ১০ টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। 

পরে খবর পেয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে স্বপ্নাসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না সন্তানকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইলিয়াস (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ভোর রাতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই যুবক নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, ২ রাউন্ড গুলি, ৫টি গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

নিহত ইলিয়াস উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরা গ্রামের মৃত নুরুল আমিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোলাগুলির খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় ওই যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সোমবার বিকেলে জেলার রামগতি উপজেলার চর সেকান্তর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পারুল বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত পারুল পাশ্ববর্তী সুজন গ্রামের মো. হোসেনের স্ত্রী।

রামগতি থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) ফারুক হোসেন জানায়, ১৫/২০ দিন পূর্বে গৃহবধুকে হত্যার পর লাশ বাংলালিংকের টাওয়ার এরিয়ার পরিত্যক্ত টয়লেটে পেলে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। তদন্ত করে করে বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :