জোড়া খুনের আসামি মেয়র প্রার্থী

জোড়া খুনের আসামি মেয়র প্রার্থী

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বিএনপির বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আলোচিত সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও অটোরিকশা শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন সোহাগ হত্যা মামলার এ আসামি তৃতীয় বারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে প্রার্থীতা দেওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে না পারলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি এ পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি প্রবাসী ছিলেন। দলে আসার পর ভুট্টু  পৌর এলাকার বিএনপির ৫নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হন। এরপর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী মামলার বর্তমান পলাতক আসামি বগুড়া-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকাকে ম্যানেজ করে গিত ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন দৌঁড়ে সাবেক মেয়র ফিরোজ কামরুল হাসানকে পিছনে ফেলে প্রার্থীতা বাগিয়ে নেন ভুট্টু। সেই নির্বাচনে ভুট্টু আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম মোরশেদকে পরাজিত করে মেয়র হন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। তবে ওই কমিটি পরবর্তীতে বিলুপ্তি হওয়ায় এখন পর্যন্ত তিনি আহবায়ক কমিটির সদস্য রয়েছেন।

দ্বিতীয় বার গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ফের মনোনয়ন দেওয়া হয় ভুট্টুকে। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শ্রমিক লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজাকে পরাজিত করে বিএনপি প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু মেয়র হন। ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি দুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজার মেজো ভাই সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলামকে। হামলায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক সোহরাব হোসেন দুদিন পর হাসপাতালে মারা যান। এ জোড়া খুনের মামলায় বিএনপি প্রার্থী ভুট্টুকে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আসামি করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। এরমধ্যে ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সোহরাব হোসেন হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করেন আদমদীঘি থানার এসআই শাহিন রেজা। এই মামলার বাদী হলেন নিহত সোহরাব হোসেনের বাবা আব্দুল খালেক শেখ। আদালতে দাখিল করা চার্জশীটে ৬নম্বর আসামি তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু।

বিচারাধীন ওই মামলা থেকে বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া অন্য মামলার বাদী হলেন নিহত শফিকুল ইসলামের বড় ভাই নুর ইসলাম। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শীদ্ধার্থ সাহা আদালতে চার্জশীচ প্রদান করেন। এই মামলাতেও ৬নম্বর আসামি তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু।

সান্তাহার পৌর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী (ধানের শীষ) বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জোড়া খুনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় তিনি জামিনে আছেন। আদালতের মাধ্যমেই তিনি সত্য প্রমাণ করবেন।

সান্তাহার পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফিরোজ মো. কামরুল হাসান বলেন, এবারও মনোনয়ন চেয়েছিলাম কিন্তু দল দেয়নি। যারা গতবার মেয়র ছিলেন বিএনপি এবার তাদেরই মনোনয়ন দিয়েছেন। ভুট্টু বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকলেও দলের স্বার্থে তার জন্য কাজ করতে হচ্ছে।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল বলেন, জেলা এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে মেয়র প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভুট্টু বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সেটি আদালতে বিচারাধীন। আদালত রায় দিলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :