নোরা গত কয়েকবছরের সেরা আবিষ্কার

নোরা গত কয়েকবছরের সেরা আবিষ্কার

এই মুহূর্তে বলিউডে সেরা ড্যান্সারদের একজন নোরা ফাতেহী। তাঁর জীবন, বলা চলে প্রায় রূপকথার মতো। নোরার ২৮ বছরের জীবনে যত সংগ্রাম, উঁচু–নিচু বাঁক, তা দিয়ে দিব্যি সিনেমা বানিয়ে ফেলা যায়। নোরা সম্প্রতি গিয়েছিলেন বলিউড তারকা কারিনা কাপুরের রেডিও অনুষ্ঠানে। যদিও সেটি এখনো প্রচারিত হয়নি।

কারিনা কাপুর খানের ‘হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট’ শোতে নোরা কথা বলেছেন নিজের সম্পর্কে। আর কারিনা কাপুর নোরা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নোরা গত কয়েক বছরে বলিউডের সেরা আবিষ্কার। আমরা কেবল ‘সাকি সাকি’, ‘দিলবার’ দেখে তাঁকে চিনি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথা বলে মনটা ভরে গেল। সত্যিকারের নোরাকে জানতে পেরে আমি আপ্লুত। তাঁকে আমার স্যালুট।’

মরোক্কীয় বংশোদ্ভূত নোরার জন্ম ও বেড়ে ওঠা কানাডায়। ছোটবেলায় তিনি শাহরুখ খান আর হৃতিক রোশনের ভক্ত ছিলেন। আরবিতে ডাবিং করা তাঁদের অভিনীত সিনেমাগুলো দেখে বড় হয়েছেন নোরা। সেই থেকে স্বপ্ন, বলিউডে কাজ করবেন। কিন্তু রক্ষণশীল অভিভাবকের বাড়িতে সেটা ছিল প্রায় অসম্ভব।

আট বছর বয়সে একবার বলিউডের একটি সিনেমা দেখে নোরা বলেছিলেন, তিনি অভিনয় করতে চান। শুনে তাঁর বাবা রেগে আগুন। ধমকে বলেছিলেন, কখনো যেন আর এসব আবোল–তাবোল না বকে। বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়ে হবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নয়তো শিক্ষক। বাবার জীবদ্দশায় আর কোনোদিন নোরা নিজের ইচ্ছার কথা বলেননি। কিন্তু স্কুল, কলেজে থিয়েটার করেছেন তিনি। অন্যদের দেখে নিজে নাচ করার চেষ্টা করতেন। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়ে হওয়ায় তাঁর নাচ বা অভিনয়ের অনুমতি ছিল না। নোরা এসব বলেছিলেন ফিল্ম কোম্পানিয়নের আয়োজনে অনুপমা চোপড়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে।

ভারতে নোরার কেউ নেই। তিনি জানেন না হিন্দি ভাষা। তারপরও কেবল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে ভারতে পা রেখেছিলেন ২৩ বছরের নোরা। পাঁচ বছরের মাথায় তিনি বলিউডের চোখে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

বাবার মৃত্যুর পর ১৮ বছরের নোরা নিজের কাঁধে তুলে নিলেন পরিবারের দায়িত্ব। পড়াশোনা ভুলে কাজ শুরু করলেন। সকাল থেকে বেলা একটা পর্যন্ত রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করতেন। সন্ধ্যায় কাজ করতেন কল সেন্টারে। এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন মডেলিং এজেন্সিতে নাচের ভিডিও পাঠিয়ে লিখতেন কাজের ইচ্ছার কথা। দেড় বছর পর একটা মেইলের জবাব আসে। সেই আনন্দে বাক্সপেটরা গুটিয়ে কানাডা থেকে ভারতের মুম্বাইয়ে চলে যান নোরা। সেটা ২০১২ সালের কথা।

পরের দুই বছর নোরা কেবল বিজ্ঞাপন করেছেন, কিন্তু কোনো টাকা পাননি। সিনেমায় একটা চরিত্র পেতে সময় লেগে গেছে দুই বছর। সব নেতিবাচকতা, ব্যর্থতা, ঝুড়িভর্তি ‘না’ ঠেলে সরিয়ে সফলতার দেখা পেতে সময় লেগে যায় আরও চার বছর। আর এ মুহূর্তে নোরা বলিউডের সেরা ড্যান্সারদের একজন। 

এক কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক (ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৭৭ লাখ) পেরোনো মরক্কোর প্রথম আর একমাত্র তারকা তিনি। নোরার একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে, সেখানেও সাবস্ক্রাইবার ২২ লাখের বেশি। এ চ্যানেলে নানা কমেডি ভিডিও প্রকাশ করেন নোরা। নোরার ভাষায়, ‘আমার কমেডি সেন্স দুর্দান্ত। কিন্তু লোকে এখনো সেটা বুঝে উঠতে পারেনি।’

আপনার মতামত লিখুন :