সুরক্ষা সামগ্রীতে বাড়ছে দূষণ

সুরক্ষা সামগ্রীতে বাড়ছে দূষণ সুরক্ষা সামগ্রীতে বাড়ছে দূষণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রীতে বাড়ছে দূষণ। সংক্রমণ ঠেকাতে বেড়েছে প্লাস্টিকের তৈরি গ্লাভস, মাস্ক, হেডক্যাপ, পিপিই, স্যানিটাইজারের ব্যবহার। একবার ব্যবহার শেষে এসব পণ্য ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র। এগুলো মিশছে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, এসব বর্জ্যের নদী ও সাগরে যাওয়া বন্ধে দ্রুত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিতে হবে, তা না হলে বড় পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বন্ধে গ্লাভস, মাস্ক, হেডক্যাপ, পিপিইর মতো সুরক্ষাসামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে ব্যবহারও। প্লাস্টিক বা পলিথিনে তৈরি এসব সামগ্রীর বেশিরভাগই একবার ব্যবহার উপযোগী। তাই ব্যবহারের পর ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র।

বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো বলছে, দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে। এ সময়ে রাজধানী ঢাকায় ১ হাজার ৩১৪ টন সার্জিক্যাল হ্যান্ডগ্লাভস এবং সার্জিক্যাল মাস্কের ৪৪৭ টন বর্জ্য তৈরি হয়েছে। এসব বর্জ্যের বড় একটি অংশ যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে। যা মিশছে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে। এগুলো নদ-নদী ও সাগরে গেলে নতুন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, করোনা রোগীদের উল্লেখযোগ্য অংশই বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের ব্যবহৃত সুরক্ষাসামগ্রীগুলো সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশছে। তবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে নিয়ে করোনা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির জরিপ বলছে, প্রতিদিন প্রায় ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম। এমন অবস্থায় করোনাকালীন বর্জ্যের সুব্যবস্থাপনা জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশ গবেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন :