করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ৯১০ জনের, আক্রান্ত ৪০ হাজার

করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ৯১০ জনের, আক্রান্ত ৪০ হাজার করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ৯১০ জনের, আক্রান্ত ৪০ হাজার

চীনে নভেল করোনা ভাইরাসে মাত্র দুই ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ছয়জন। এ নিয়ে দেশটির মূল ভূখণ্ডেই মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জন। এছাড়া নতুন ভাইরাসটিতে হংকং এবং ফিলিপাইনে প্রাণ হারিয়েছেন আরো দুইজন। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ হাজার।

চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতিষেধকবিহীন করোনা ভাইরাসে শুধুমাত্র রোববারই মারা গেছেন ৯১ জন। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরেই তারা এর সঙ্গে আরও ছয়জনের নাম যোগ করে। জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ৪ দিন ধরে আটকে থাকা ক্রুজ শিপের প্রায় ৪ হাজার যাত্রীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে যাদের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চীনে পৌঁছেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদল।

এদিকে চীন থেকে সামরিক বিমানে করে ৩৪ নাগরিককে দেশে ফিরিয়েছে ব্রাজিল। এছাড়া, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও সিঙ্গাপুরে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীন ছাড়া এসব দেশ ও অঞ্চলে ৩১০ জনের বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা সিঙ্গাপুরে।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন, বেলজিয়ামে একজন, কম্বোডিয়ায় একজন, কানাডায় সাতজন, ফিনল্যান্ডে একজন, ফ্রান্সে ১১ জন, জার্মানিতে ১৩ জন।হংকংয়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কমপক্ষে ৩৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন, ইতালিতে তিনজন। 

জাপানে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন; এদের মধ্যে ৬৪ জনই একটি প্রমোদতরীর। তারা দেশটির সীমানায় পৌঁছানোর আগেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জাপানের সরকারি হিসাবে তাদের নাম যুক্ত হবে না। অপরদিকে ম্যাকাওতে ১০ জন, মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, নেপালে একজন, রাশিয়ায় দু'জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ জন, স্পেনে একজন, শ্রীলঙ্কায় একজন, সুইডেনে একজন, তাইওয়ানে ১৭ জন এবং থাইল্যান্ডে ৩২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

ফিলিপাইনে তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরব আমিরাতে সাতজন, যুক্তরাজ্যে তিনজন, যুক্তরাষ্ট্রে ১২ জন জন এবং ভিয়েতনামে অন্তত ১৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০০২-০৩ সালে করোনাভাইরাস পরিবারের আরেক সদস্য সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে (সার্স) মৃত্যু হয়েছিল সব মিলিয়ে ৭৭৪ জনের। সার্স সে সময় ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বের দুই ডজন দেশে; আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১০০ জনের কাছাকাছি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :