ভেঙ্গে লন্ডভন্ড চরফ্যাসনের বেতুয়া লঞ্চঘাটের পল্টুন, যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

ভেঙ্গে লন্ডভন্ড চরফ্যাসনের বেতুয়া লঞ্চঘাটের পল্টুন, যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ ছবিতে-যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে নামতে চরম দূর্ভোগ

ভোলার চরফ্যাশনে বেতুয়া লঞ্চঘাটের পল্টুনটি দির্ঘদিন যাবত ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে পানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিএ অব্যবস্থাপনায় ও নিরব ভূমিকা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন নৌ-পথ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া লঞ্চঘাটের যাত্রী ওঠানামার পল্টুনটি দির্ঘদিন ধরে ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে মেঘনা নদীতে ডুবে রয়েছে। ঈদ-উল আজহায় হাজার হাজার ঘরমুখি ও যাত্রীদের চরম দূর্ভোগের মধ্যে লঞ্চ থেকে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোলা বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি বেতুয়া লঞ্চঘাটের দিকে। বর্ষার কাদামাটি ও পল্টুন না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন শেষ নেই দ্রুত বেতুয়া লঞ্চঘাটে নতুন পল্টুন দাবী সাধারন যাত্রীদের।

রোববার(১৮আগস্ট) বিকেল ৪টায় বেতুয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চকর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় ও মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে এবং ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে পল্টনটি ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় পড়ে আছে। লঞ্চ যাতায়াতের সময় পল্টুনের পাশেই ব্লকের উপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ভিজে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়। কোন কোন পরুষ,মহিলা যাত্রী নৌকা দিয়ে লঞ্চে উঠতে গিয়ে অনেক সময় পানিতে নেমে লঞ্চে উঠতে হয়। মাঝা পরিমান ভিজে যায়, এতে পোষাক ও জুতার কোন অবস্থা থাকেনা। লঞ্চে উঠে পোষাক বদলাতে হয়। ঢাকা থেকে ঘাটে এসেও অনেকে ভিজা শরীর নিয়ে বাড়ীতে ফিরে। উঠা-নামার সময় বড়ধরনের দূর্ঘটনার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান একাধিক যাত্রী সাধারন।

এসব দূর্ভোগ নিয়ে কর্ণফুলি লঞ্চের ঢাকাগামী যাত্রী নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,ঈদে কিছু দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে যা দেখলাম মনে হয় দেশের সব সম্পদ শুধু লুটপাটই হচ্ছে,কাজের বেলায় কিছুই হচ্ছে না। 

এদিকে বিআইডব্লিউটি কর্তৃক নিয়োজিত ঘাট ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন জানান, প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ ১০-১২ হাজার যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করে এই লঞ্চ ঘাট থেকে। ফলে ঢাকাগামী তিনটি লঞ্চের চাপ এবং মেঘনার প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে টার্মিনালটি বিকল হয়ে পড়ে। কয়েকবার মেরামত করা হলেও তা আবারও ভেঙে যায়। তবে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যাতে করে শক্ত ও মজবুত করে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয় সে জন্য বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তৃপক্ষ লঞ্চ টার্মিনালটি পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।

ভোলা জেলা পোর্ট অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমি বিষয়টি নৌ-সংরক্ষণ পরিচালনা আঞ্চলিক অফিসার রফিকুল আসলামকে জানিয়েছি। ঈদের আগে লোক পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ঈদের আগে সম্ভব না হওয়ায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্টুনটি মেরামত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন :