শশীভূষণ-চেয়ারম্যান হাট সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদ

শশীভূষণ-চেয়ারম্যান হাট সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদ ছবি- শশীভূষণ টু চেয়ারম্যান হাট সড়কের বেহাল অবস্থা, রাস্তায় নামলেই দূর্ভোগ

ভোলার চরফ্যান উপজেলার শশীভূষণ-চেয়ারম্যান হাট বাজার  পযর্ন্ত ৬ কিলোমিটার পাকা সড়কটি শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়ে  সড়ক নয় যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যে কোন ধরনের যানবাহনসহ মানুষের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

রাস্তায় বের হয়ে প্রতিদিন ৬ কিলোমিটার পাকা সড়কের এহেন দূদর্শা দেখে স্থানীয়দের জনগনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকা সূত্র জানায়, শশীভূষণ-চেয়ারম্যান হাট বাজার সড়কটি রয়েছে ৬ কিলোমিটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সড়কের উন্নয়ন সংক্রান্ত সকল কাজে দলীয় ঠিকাদার’রা সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের যোগসাজসে নি¤œ মানের কাজ করায় কাজ শেষ না হতেই গর্ত হয়ে তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

এই সড়কটি প্রতি বছরে নতুন করে সংস্কারে কাজ করে থাকেন। মনে হয় এসব কাজের মধ্যে কোটি কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্প বাজেট তৈরী করে অর্থ আত্মসাতের প্রতিযোগীতায় নেমেছে  সংশ্লিষ্ট অফিস ও নামধারী ঠিকাদার’রা।

প্রকল্পের কাজে মোটা অংকের বাজেট বরাদ্ধ থাকলেও তারা কাজের গুনগত মানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ শেষ করে চুড়ান্ত বিল তুলে নিচ্ছেন। কাজের ঠিকাদার’রা সরকার দলীয় লোক বিধায় সংশ্লিষ্ট অফিসের কোন প্রতিনিধি সড়কের কাজ চলাকালিন সময়ে তদারকি করতে দেখা যায় না। আর যদিও বা গিয়ে থাকেন তাহলে তারা পুতুলের মত বসে বা দাড়িয়ে থাকেন।

তারা বিল প্রদানের সময় পারসেন্টিজ আকারে উৎকোচ গ্রহণ করেন বিধায় কাজ তদারকিতে তাদের কোন গুরুত্ব থাকে না ঠিকাদারদের কাছে। উপজেলায় সবচেয়ে বেশী কাজ হয়েছে উপজেলা এল.জি.ই.ডি কার্যালয় থেকে। উল্লেখিত অফিসের কর্মকর্তাগন সড়কের কাজ চলাকালীন সময়ে কাজের গুনগত মানের ব্যাপারে তেমন ভ্রুক্ষেপ করেন না।

এ জন্য ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছামত তড়িঘড়ি করে কাজ সমাপ্ত করেন। ফলে কাজের গুনগত মান নিম্ন হয়। এতে করে কাজ শেষ করার ২/১ মাসের মধ্যে কোথাও সড়কের পিচ আবার কোথাও সি.সি ঢালাই উঠে যায়। আর এসব নিন্ম মানের সড়কে যানবাহন চলাচল করতে করতে রাস্তা পূর্বের অবস্থার চেয়ে আরও খারাপ হয়ে যায়। এমন কোন স্থান নেই যেখানে কোন গর্ত নেই। শশীভূষণ থেকে চেয়ারম্যান হাট ৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে প্রায় কয়েক শত গর্ত রয়েছে।

গর্ত থাকার কারনে অটো বোরাক, অটো টেম্পু, রিক্সা,মোটর সাইকেল, ভ্যান গাড়ী, ঠেলা গাড়ী, ভটভটি চলাচলে যাত্রীদের দূর্ভোগের শেষ নেই। সড়কের উপর বড় বড় গর্ত । এখন বর্ষা মৌসূমে এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ চলাচল করতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোন যানবাহনে চড়লে কিছু দুর পর পর গর্ত দেখলে যানবাহন থেকে নেমে গর্ত পার হতে হয়। এসব সড়কে মালামাল পরিবহনেও দূর্ভোগের শেষ নেই। সড়কের এহেন দূর্দশা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তারা প্রতিনিয়ত কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের এই অভিযোগের ভাষা কর্তৃপক্ষের কান পর্যন্ত পৌঁছলেও তা কোন কাজে আসছে না। বর্তমানে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জনতার মাঝে সড়ক সংস্কার নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এছাড়া এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিয়ত শানিমা বিক্র ফিন্ড থেকে শত শত ট্রাক,টলি আসা-যাওয়ার কারণে সড়কটির শশীভূষণ অংশ দ্রুত সময়ে মধ্যে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়ে যায়। এতে সড়কটি মেরামতের দুই এক মাসের মধ্যে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রকোশলী মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সড়কটির মেরামতের জন্য ভোলা এক ঠিকাদার কাজটি পেয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদার সড়কাটির কাজ শুরু করেছিল অতিরিক্ত বৃষ্টি বর্ষা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি।

বর্তমানে বিভিন্ন পুরাতন সড়ক পূণঃ মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। বাকী কাজগুলো পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :